Thursday, July 02, 2009

বোকাদের পদ্য ০৬১

গাঢ় সন্ধ্যার শেষ ট্রেনের পেছনে ছুটতে ছুটতে একসময় আবার হাঁটছো উল্টো পথে
শেষ বগির আলো দূরে সরে যাবার আগে দীর্ঘ করে দিয়ে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্মে তোমার ছায়া
শুনতে পাচ্ছি বালিশে কান পেতে তোমার আষাঢ়সঙ্কেতী গুড়গুড় বিড়বিড়ে খিস্তির খুতবা
দেখতে পাচ্ছি মানসচোখে, ছুটছো পাঁজরের স্কুইরেল কেইজে দিনভর
আবার হাঁটছো প্ল্যাটফর্মের ধূলো, কাগজ আর বাদামের খোসার সাভানায়, ফেলছো ভদ্রলোকী থুতু
দাঁতে কাটছো ভাঙা হতাশ বিস্কুট, তৃষ্ণাটুকু ভাঁজ করে পকেটে রেখে তাকিয়ে দেখছো দূরে বালছালকোলার নিয়ন গসপেল
এভাবেই পায়চারিতে কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলে ভোরের ট্রেনের আগে রাতটুকু
দেখতে পাচ্ছি, তোমার অফিসের ব্যাগ প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে বালিশের চাকরি করছে রাতের পর রাত
শুনতে পাচ্ছি, ঘুমের মধ্যেও খুব হেঁটে পার হচ্ছো খালবিলস্থাবরজঙ্গম
দেখছি আবারও, ভুল ভোরের ট্রেন তোমার ঘুম ভাঙাচ্ছে অশিষ্ট হুইসেলের কোমল ঋষভে।


[]

Sunday, January 04, 2009

রেজোলিউশন ২০০৯

ঝোলপাতিয়ায় কোন দুঃখ নেই, আছে শুধু হর্ষের রাজধানী। সেখানে ঋতুরা থাকে ছয় বোন, পাশাপাশি বাড়ি। সেখানে শরতে মেঘ বর্ষার মেঘের চেয়ে ফর্সা বলে হেমন্তে কোন মেঘ নেই। ঝোলপাতিয়ার শীতে সকালে নরম রোদে বসে লোকে ভাঁপা পিঠা খায়, বাচ্চাদের তালমিছরি কিনে দেয় তাদের বাবারা। ঝোলপাতিয়ায় সব দুপুর রোদের সাথে কথা বলে পুকুরে চালতাখসা শব্দের সঙ্কেতে। ঝোলপাতিয়ার সব মিষ্টি মেয়ে শাড়ি পড়ে, তাদের শায়ার রেখা সতর্ক তরুণ চোখে ধরা পড়ে সততই। কলেজে ঘন্টা বাজে, নদী আর ফুলের নামে অঙ্কিতারা হাসিতে বিকেলটাকে ক্লান্ত করে সন্ধ্যা নামায়। সেখানে জোনাকি আছে, ল্যাম্পপোস্টও আছে, আছে চাঁদ।

ঝোলপাতিয়ার সব সৈকতের তিনচোখো নারকেল উপকূলে অতন্দ্র পাহারা দিয়ে যাচ্ছে কয়েক দশক ধরে। ২০০৯ এ আমি ঠিক ঠিক সাগরে ভাসাবো ভেলা। ঝোলপাতিয়ার কোন নির্জন বিকেলে বসে পুকুরপাড়েই আমি তোমার সঙ্গে বসে এক কাপ খয়েরি চা খাবো। এই রেজোলিউশন লিখে দেখো বোতলে ভরেছি, ঝোলপাতিয়ায় গিয়ে ভাসাবে তা ঢেউয়ের হরকরা।

বন্ধু, তুমি পাত্র তোলো আজ এই পরম শপথে। পান শেষে বোতলটা ধার দিও. ঝোলপাতিয়ায়, আমার বার্তার জন্যে সৈকতে ঝিনুক গুণছে কেউ।

[]

Sunday, December 21, 2008

একটি বার জিতে হেরে চলছি অনেক বার

বার বার হেরে যাচ্ছি, একটি বার জিতে বার বার হেরে ঝরে পড়ছি বিজয়ীর ঝাঁক থেকে। আমারই রক্তাক্ত শরীর মুখে করে হাঁপাতে হাঁপাতে হন্তারকের ধোঁয়া ওঠা বন্দুককে গরম ভাত ভেবে তার কাছে ফিরছে সশস্ত্র কুকুর। আকাশ কালো করে দেখতে পাই হেসে উঠছে এক একটি কৃষ্ণপক্ষের দাঁতের পাটি। দমকা হাওয়ায় কে উড়ছে ও, আমার লাল সবুজ?

অথচ আমিই তো ছিলাম লক্ষ লক্ষ ঘরে মাটিতে লুটিয়ে, যখন আমার পিতাকে টেনে হিঁচড়ে বার করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, আমার মাতাকে করা হয়েছে ধর্ষণ, আমার রক্তধারা গড়িয়ে মিশেছে পুড়তে থাকা বাংলাদেশের গনগনে তন্দুরে, আর সেই আমিই আজ অস্ফূটে হারতে হারতে পেছনে কুষ্ঠরোগীর হাত রেখে বলছি, হে বেতাল মেরুদন্ড, আমি কি তবে যিশু, আর তুমিই কি আমাকে ধারণ করছো ক্রুশ হয়ে?

পান করো আমার রক্ত একটি দীর্ঘ চুমুকে, এক একটি হাড় খুলে নিয়ে দিও তোমাদের বিষন্ন কামারদের, একদিন খুব মদমত্ত হয়ে সেইসব ধারালো অস্থি নিয়ে পথে নেমো আমার বন্ধুরা, এক একটি নির্বিঘ্নভ্রমণে রত শূকরকে বিদ্ধ করো, আর অট্টহাস্যে আকাশকে স্মরণ করিও প্রপিতামহের দেখা ভোরগুলির কথা।

[]