Saturday, March 11, 2006

বোকাদের পদ্য: প্রতিশ্রুতি


[যথারীতি পুরনো কবিতা, ফেব্রুআরি ০২, ২০০৫ এ প্রকাশিত, মঙ্গার দিনে মরাইয়ের তলা থেকে বার করে আনা ধানের মতো৷ কী করবো, লিখতে পারছি না৷ কার কাছে ক্ষমা চাইবো? প্রতিশ্রুতাদের কাছেই চেয়ে নিই৷]


হিমু বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে
ভোরের বাতাস আর তারাদের সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো
একদিন সে ঠিক ঠিক বিপ্লব করে সূর্যের নিচে পৃথিবীটাকে পাল্টে দেবে
কিন্তু সে স্বপ্নই দেখতো কেবল, বিপ্লব আর তার করা হয়ে ওঠেনি
কারণ সে ঘুমোতে ভালোবাসে
আর তাই একদিন ভোরে তাকে বিপ্লব না করার অপরাধে জেলে ঢুকতে হয়৷

হিমু জেলে ঢোকার আগেই কারাবাস নিয়ে বিস্তর কবিতা লিখেছে
সেগুলো আদৌ কবিতা নয়, পেনসিল বুলিয়ে সে কবিতার খাতাকে প্রতিশ্রুতি দেয়
একদিন কারাবাসের সব যন্ত্রণা সে কাগজে সঁপে দেবে, এইসব হাবিজাবি .. ..
জেলে ঢুকে কিন্তু সে হাতের কাছে কাগজ বা পেনসিল পায় না
আমরা তাকে দেখি, জানালা থেকে দূরে বসে সে তাকিয়ে
সেই এক চিলতে ঘরের জানালায় একমুঠো আকাশের দিকে তাকিয়ে সে শ্বাস নেয়
আর তাকে সঙ্গ দেয় এক মুঠো রোদ, এক মুঠো রাত, এক মুঠো মেঘ .. ..
সেই মুঠো মুঠো বান্ধবের কাছে সে প্রতিশ্রুতি দেয় .. .. আমরা শুনি .. ..
জেল থেকে বেরিয়ে সে আকাশটাকে একটু তাকিয়ে দেখবে,
খেলা করবে রোদ, অন্ধকার আর বৃষ্টির সাথে৷

তার এই অঙ্গীকারের ফিসফিস বাতাসে কি একটু বেশিই ছড়িয়ে যায়?
কর্তৃপক্ষ এই কথা শুনে হেসে খুন
তারা বলে, 'দাও ব্যাটাকে ছেড়ে৷'
হিমু তার কারাকক্ষের বন্ধুদের ছেড়ে অনেকের ভিড়ে বেরিয়ে আসে৷

আমরা তার দেখা পাই কিছুদিন পর
ভেবেছিলাম এদ্দিন জেল খেটে বোধহয় শুধরেছে ব্যাটা
হয়তো সত্যি সত্যি সে সময় দিচ্ছে তার একমুঠো রোদের বন্ধু আকাশজোড়া রোদ,
একমুঠো রাতের সঙ্গী আকাশজোড়া রাত আর একমুঠো মেঘের স্যাঙাত্‍ একগুচ্ছ মেঘকে
কিন্তু আমরা তাকে খুঁজে পাই তার ঘরে
ঘুমোচ্ছে সে
তার বিছানার পাশে রাখা কয়েক টুকরো নুড়ি আর সুড়কি
আমরা বুঝতে পারি, সেই পাথর আর মাটির টুকরোর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হিমু
একদিন অনেক বড় এক কারাগার গড়ে তুলবে সে .. .. ৷


No comments: