Wednesday, November 09, 2011

বোকাদের পদ্য ০৫৯


তোমার দোরে ফিরছে দূরের গাড়ির ঘোড়া
তোমার বাবা ঘোড়ার পায়ে পরাচ্ছে নাল
একটু দূরে জ্বলছে আগুন, কয়লা কালো
দেখছে তোমায়, পুড়ছে, জ্বলে হচ্ছে সে লাল

তোমার কুটির খুঁজছে দূরের অন্ধ নদী
চাইছে বুঝি বাঁকের হদিশ তোমার কাছে
একটু দূরে চুপটি ঝোলে একলা বাদুড়
তোমার পোষা অন্ধকারে হিজল গাছে

জানলা তোমার খুলছে সে কোন দূরের চিঠি
একটা অচিন ডাকটিকিটে তোমার হাসি
হকার এসে দিচ্ছে কাগজ, প্রথম পাতায়
হরোস্কোপের সকল ছকেই তোমার রাশি

হঠাৎ হাওয়ায় বারান্দাতে খইয়ের বাটি
সব হারিয়ে শূন্য বুকে তোমায় খোঁজে
পোস্ট অফিসে টেলিগ্রামের প্রথম সারি
তোমার নামের হরফগুলি কেবল বোঝে

একটু দূরে পড়শী যখন পুড়ছে রোদে
তোমার বুকেই মেঘদূতেরা বৃষ্টি ঢালে
চুপটি ভেজে হ্রেস্বাভোলা একলা ঘোড়া,
দূরের গাড়ি তোমার বাবার কামারশালে

দ্রাঘিমাদের বাঁধন কেটে বাণিজ্যবায়
মুখ ফিরিয়ে তোমার বাড়ি ভিজতে আসে
অপয়া নাম ঘোচাতে সব একলা শালিক
অন্যটিকে ফিরছে খুঁজে তোমার পাশে

তোমার বাড়ির সামনে এসে সকল সড়ক
ফুরোয় বলে ঠিকানা তার হারায় মানে
তোমার বাড়ি যাবো না আর, আজকে চলো
তোমায় খুঁজি অন্য কোথাও, অন্যখানে?

Saturday, July 02, 2011

বোকাদের পদ্য ০৭২

শয়তান জাগে নরকের রাত একা
ঈশ্বর একা স্বর্গে বিনিদ রাতে
একা জেগে ভাবে পুরনো স্বপ্নকথা
শয়তান ছিলো শুরু থেকে শেষে তাতে

বেশ্যার চোখে সাদা জমিনের মতো
বিষণ্ণ সব আঁধারের ছায়া ঠেলে
নিঃসঙ্গতা কাছে এসে নাম ধরে
ডেকে বলে, কবি, কী করো ঘুম না এলে?

ঈশ্বর একা, শয়তান একা জেগে
পরস্পরের কথা ভাবে অবিরত
রাতও জেগে থেকে আমাকে সঙ্গ দেবে
আমি জেগে থেকে ঢাকি কবিতার ক্ষত।